ঢাকা | খ্রি.

সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং | Photo Card
সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতিকে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন জিডিপি প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও গ্রামীণ কারুশিল্পের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রভাব বা ‘সফট পাওয়ার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতিকে শুধু বিনোদন কিংবা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসব খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

আজ রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ (Creative Footprints) বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, সরকারের একার পক্ষে এ খাতের সব সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। তাই নীতিগত সহায়তা ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। এ খাতের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশীয় শিল্পী ও কারুশিল্পীদের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চিত্রশিল্পী, কারুশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা প্রণয়ন, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যামাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। একই সঙ্গে তাঁদের আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সৃজনশীল পণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সৃজনশীল শিল্প কেবল ব্যবসা কিংবা কারুশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের সাংস্কৃতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারেরও একটি মাধ্যম। সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
তিন সিঙ্গারায় পাঁচজনের সুখ: এক রিকশার নিচে জীবনের গভীর পাঠ

তিন সিঙ্গারায় পাঁচজনের সুখ: এক রিকশার নিচে জীবনের গভীর পাঠ