ঢাকা | খ্রি.

অতিরিক্ত উৎপাদন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪ দেশের সঙ্গে ভারতের যৌথ ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 8, 2026 ইং | Photo Card
অতিরিক্ত উৎপাদন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪ দেশের সঙ্গে ভারতের যৌথ ঘোষণা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে শিল্প ও উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও ১৪টি দেশের সঙ্গে যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বিবৃতিতে সই করেছে ভারত। বাজারকে বিকৃত করে এবং অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়িয়ে তোলে—এমন বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে এতে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ১৫টি দেশের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করে। ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অনুষ্ঠিত জি-২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এটি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশকে নিজেদের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজার বিকৃত করে বা অতিরিক্ত উৎপাদনকে উৎসাহিত করে—এমন নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে হবে। দেশগুলোর মতে, এসব উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও বেশি দেশ নিজেদের শিল্প, শ্রমিক ও অর্থনীতিকে সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তবে তথ্য বিনিময়, সহযোগিতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব।

জি-২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীরা বিভিন্ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সভাপতিত্বের সময় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগকেও তারা স্বাগত জানিয়েছেন। বিবৃতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতাকে বিশ্ব অর্থনীতি এবং পৃথক দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে জি-২০ আগেও আলোচনা করেছে। ২০১৬ সালে সাংহাইয়ে জি-২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীরা কয়েকটি শিল্পে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং এর ফলে বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ইস্পাত কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।

এরপর অতিরিক্ত ইস্পাত উৎপাদন ও সক্ষমতা নিয়ে একটি বৈশ্বিক ফোরাম গঠন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ইস্পাত খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদন কমাতে যৌথ সমাধান তৈরি করা এবং বাজারের কার্যকারিতা বাড়ানো। ২০১৬ সালের পর হাংঝৌ সম্মেলনে জি-২০ নেতারাও স্বীকার করেন, কিছু শিল্পে অতিরিক্ত সক্ষমতাসহ বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তারা আরও বলেছিলেন, সরকার বা সরকারি পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা বাজারে বিকৃতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে দেশগুলো পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।

নতুন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বাজার চাহিদা কমে যাওয়ায় কিছু শিল্পে অতিরিক্ত সক্ষমতার সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর। দেশগুলো ইস্পাতসহ অন্যান্য শিল্পে অতিরিক্ত সক্ষমতাকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা বাজারে বিকৃতি তৈরি করে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের কার্যকারিতা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে দেশগুলো স্বীকার করেছে, এসব অঙ্গীকার এবং কয়েকটি জি-২০ সদস্যের নেওয়া পদক্ষেপের পরও ২০১৬ সালের পর অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা আরও বেড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ সভাপতিত্বের সময় সদস্য দেশগুলো এমন কিছু অর্থনীতির উদাহরণ নিয়েও আলোচনা করেছে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব উৎপাদন বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল না; বরং সরকারি নীতি বা হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা তৈরি, টিকিয়ে রাখা বা সম্প্রসারিত হয়েছে।

দেশগুলোর মতে, অতিরিক্ত সক্ষমতা অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়ায় এবং কিছু দেশে উৎপাদন অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রীভূত করে। এর ফলে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, উৎপাদন ও নতুন সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাজারনির্ভর রপ্তানিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদন থাকলে তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে পণ্যের দাম ও উৎপাদনের ধরন বিকৃত হয়, নতুন প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে এবং উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা কমে যায়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো দেশের পণ্যের ওপর তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের নির্ভরতা বাড়তে পারে। এর ফলে তারা অর্থনৈতিক চাপের ঝুঁকিতে পড়ে, যার মধ্যে ইচ্ছামতো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।

অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানানো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, রাসায়নিক পণ্য, মৌলিক সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌর প্যানেল। বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এসব খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়া, কর্মসংস্থান নষ্ট হওয়া এবং অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন ও শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ কারণে সব দেশকে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারকে বিকৃত করে বা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে—এমন বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চা বন্ধের কথাও বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ না নিলে আরও বেশি দেশ নিজেদের শিল্প, শ্রমিক ও অর্থনীতিকে সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, রাসায়নিক পণ্য, মৌলিক সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌর প্যানেলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে নতুন বিশেষ প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদন ও সক্ষমতার সমস্যা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওইসিডির বাণিজ্য কমিটির বৈঠকের ফাঁকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। ওইসিডির সদস্য নয়—এমন দেশসহ অন্যান্য দেশকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশগুলো ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগে কারিগরি পর্যায়ে বৈঠক করার অঙ্গীকার করেছে। ওই বৈঠকে কাজের নিয়ম ও পরিধি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও উৎপাদন, সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর ওপর এর প্রভাব এবং ক্ষতি কমাতে নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত ভাগাভাগি করা হবে।

কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, তাও চিহ্নিত করা হবে। এ কাজে ওইসিডিসহ অন্যান্য উৎসের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ওপর তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও দেশগুলো পর্যালোচনা করবে। যেখানে সম্ভব, এসব পদক্ষেপ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোতে বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা পুনরুদ্ধার করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান সম্পা

স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান সম্পা