ঢাকা | খ্রি.

আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে ২২তম বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় -সৈয়দ এম এ জিন্নাহ্

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং | Photo Card
আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে ২২তম বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় -সৈয়দ এম এ জিন্নাহ্ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের সংগ্রামী পদচিহ্ন। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে চলা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পূর্ণ করে ২২তম বছরে পদার্পণ করেছে। তবে গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জনের পাশাপাশি আবাসনসংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও সামনে এসেছে।

১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি নানা পরিবর্তন ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। দীর্ঘ ১৬৮ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য এবং দুই দশকের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের উচ্চশিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।

স্কুল থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সূচনা ঊনবিংশ শতাব্দীতে। ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী ১৮৭২ সালে তাঁর বাবা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন জগন্নাথ স্কুল। ১৮৮৪ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে উন্নীত হয়। পরে ১৮৮৭ সালে স্কুল শাখা পৃথক করে প্রতিষ্ঠা করা হয় কিশোরীলাল জুবিলি স্কুল। ১৯০৮ সালে জগন্নাথ কলেজ প্রথম শ্রেণির কলেজের স্বীকৃতি পায়।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর জগন্নাথ কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চশিক্ষার কার্যক্রম সীমিত করে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে রূপান্তর করা হয়। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গ্রন্থাগারের মূল্যবান বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৪৯ সালে জগন্নাথ কলেজে আবার স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। ১৯৪২ সালে নারীশিক্ষার প্রসারে সহশিক্ষা চালু হলেও ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৬৩ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ সাইদুর রহমানের উদ্যোগে পুনরায় সহশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আবার বেসরকারি কলেজের মর্যাদা ফিরে পায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুমোদিত হয়। একই বছরের ২০ অক্টোবর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজ পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম খান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

ভাষা আন্দোলন থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

জগন্নাথের ইতিহাস কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকাশের ইতিহাস নয়; এটি বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন: কী ও কেন?’ পুস্তিকার রচয়িতা অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানও এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত রফিকউদ্দিন আহমদ ১৯৫২ সালে জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভাষা শহীদ রফিক ভবন’।

ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও জগন্নাথ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলা ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হয় প্রতিষ্ঠানটি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন এখানকার অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও একাত্তরের গণহত্যা’ শীর্ষক গুচ্ছ ভাস্কর্য।

স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। এর সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। ওই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদ ও আহসান হাবিব তামিম। আহত হন আরও অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদান

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন অনুষদের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় অতীত। জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী ব্রজেন দাস ছয়বার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য নজির স্থাপন করেন। দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী কারাতেকা মারজান আক্তার প্রিয়াও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বড় চ্যালেঞ্জ আবাসনসংকট

গৌরবময় ইতিহাস ও একাডেমিক অগ্রগতির বিপরীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সংকট শিক্ষার্থীদের আবাসন। পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সীমিত জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে নিজস্ব উদ্যোগে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাসস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

আবাসনসংকট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনো অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত আবাসিক হল নির্মাণ, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও অন্যান্য শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত করা এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ঘিরে প্রত্যাশা

আবাসনসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কেরানীগঞ্জে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ২০০ একর জমির ওপর পরিকল্পিত এই ক্যাম্পাসের প্রকল্প অনুমোদিত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, নির্ধারিত সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়িত হলে আবাসিক হলের সংকট কমার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত গ্রন্থাগার, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছর অতিক্রান্ত হলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করে চলেছেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা। এখন প্রয়োজন দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে পরিকল্পিত বিনিয়োগ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও অর্জন তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে পুস্তিকা প্রকাশের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে ১৩ অক্টোবর সাতটি উপকমিটির আহ্বায়কদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় সাংস্কৃতিক আয়োজন, মঞ্চসজ্জা, নিরাপত্তা, প্রচার ও অন্যান্য প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

১৮৫৮ সালে যাত্রা শুরু করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে রয়েছে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি অধিকার আদায়ের আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের অসংখ্য স্মৃতি। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, আর সেখান থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—বিভিন্ন ঐতিহাসিক অধ্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এর ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানের গৌরব কেবল অতীতের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন সাফল্যের মধ্য দিয়ে তা আরও বিকশিত হবে। আবাসনসংকট নিরসন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক : সম্পাদক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আজ থেকে শুরু দুই ডোজের কলেরা টিকাদান কর্মসূচি

আজ থেকে শুরু দুই ডোজের কলেরা টিকাদান কর্মসূচি