ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ও চরম অর্থনৈতিক মন্দার আগুনে পুড়ছে ইরান। নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় শুরু হওয়া এই গণবিক্ষোভ এবার রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে পশ্চিম ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের কুহদাশত এলাকায় আমিরহোসাম খোদায়ারি ফার্দ (২১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যানুযায়ী, চলমান এই আন্দোলনে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে একেই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী গণবিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিহত আমিরহোসাম আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি গণমাধ্যম। তবে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে নাকি অন্য কোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবারও (১ জানুয়ারি) দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মারভদাশতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন এখন কেবল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এতে যোগ দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরাও।
ইরানের অর্থনীতির বর্তমান চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আর সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি গিয়ে ঠেকেছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও জানিয়েছে, কেরমানশাহ ও খুজেস্তানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। রাস্তায় রাস্তায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হলেও মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষোভ দমানো যাচ্ছে না।
বিক্ষোভের মুখে এবার কিছুটা ভিন্ন কৌশল নিয়েছে তেহরান। অতীতে যেকোনো আন্দোলন দমনে সরাসরি কঠোর অবস্থানে গেলেও এবার কিছুটা নমনীয়তার সুর পাওয়া যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শোনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, তারা ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, তা ইরানের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সরকার যদি দ্রুত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আরটিভি/এআর
নিউজ বাংলা চ্যানেল