কর্মসূচির আওতায় ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক বিনামূল্যে কলেরার টিকা পাবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবেন না। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্ধারিত এলাকাগুলোতেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সম্প্রতি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরার কারণে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ত। বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা প্রয়োজন। জাতীয় অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির মতো এই কর্মসূচিতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নেওয়া ভূমিকার প্রশংসাও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরার টিকাদান কর্মসূচিও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভিব্রিও কলেরি জীবাণুর সংক্রমণ থেকে কলেরা রোগ হয়। মুখে খাওয়ার এই ভ্যাকসিন কলেরা প্রতিরোধে সহায়তা করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা কমাতেও ভূমিকা রাখে।
তবে শুধু টিকা গ্রহণ করলেই হবে না, কলেরা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো অভ্যাস বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল