এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনে রাশিয়ার তেল কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশ—ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান—থেকে আমদানি করা পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সময়সীমা ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে নির্বাহী আদেশ জারি করে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের বিষয়টি আপাতত মওকুফ করেন।
এই ছাড় স্থায়ী নয়। ট্রাম্প চাইলে পরবর্তী সময়ে আবারও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।
সিদ্ধান্তটির ফলে আপাতত বড় ধরনের শুল্কের চাপ থেকে রক্ষা পেল ভারত। এর আগে গত মাসে দেশটি জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারত আরও বলেছিল, এ ধরনের শুল্ক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শুল্ক আরোপের আইন করা হলেও তা প্রয়োগে তিনি অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম চালানেই যুক্তরাষ্ট্র ৩ লাখ টন ডিজেল পাবে।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর এই ডিজেল চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি চুক্তিটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জেলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, এখন ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বা নেতা বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল