সোমবার তাইপেতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় গ্রিন এসব কথা বলেন। কার্যত তিনি তাইপেতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রিন বলেন, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই এত শক্তিশালী ছিল না। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে আমাদের সহযোগিতা আরো গভীর হচ্ছে।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের বিভিন্ন কোম্পানির বিনিয়োগ দেশটির শিল্প খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।
বেশির ভাগ দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাইওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটি তাইওয়ানের বড় অস্ত্র সরবরাহকারীও।
বর্তমানে তাইওয়ানের বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে কোম্পানিটির বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৫ বিলিয়ন ডলার।
রেমন্ড গ্রিন বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নতুন রেকর্ড গড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যারিজোনা ও টেক্সাসে বিনিয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে আবার শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন কোম্পানিগুলোও তাইওয়ানে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। বিশেষ করে রাজধানী তাইপে এবং দেশটির প্রধান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকেন্দ্র সিঞ্চুতে প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
তাইপেতে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেমিকন চিপ বাণিজ্যমেলাকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দেন গ্রিন। ওই মেলায় মাইক্রোসফট, গুগলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্য। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। উন্নত চিপ উৎপাদনে তাইওয়ান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং টিএসএমসি বিশ্বের বহু বড় প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য চিপ তৈরি করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা ‘চুরি’ করার অভিযোগ করেছেন। তাইওয়ান সরকার এসব অভিযোগ ও ধারণাকে অন্যায্য বলে মনে করে।
তা সত্ত্বেও তাইওয়ানের সরকার দেশটির কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দিয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানে গ্রিনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তাও বক্তব্য দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচি ‘চিপস অ্যাক্ট’ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি কাজ করছে।
বাণিজ্য বিভাগের সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক বিল ফ্রাউনহোফার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা নয়; নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এমন পেশার সুযোগ তৈরি করাও তাদের উদ্দেশ্য, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে আরও শক্তিশালী করবে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়লে প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের প্রযুক্তিখাতের ক্রমবর্ধমান এই সহযোগিতা বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল