উদ্যান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। সরকারি ইনস্টাগ্রাম পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ব্রোমোর গহ্বর ঘিরে থাকা বিশাল বালুময় অঞ্চল পর্যটকদের কাছে ‘বালুর সমুদ্র’ নামে পরিচিত।
প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এই এলাকায় ভ্রমণ করেন। তবে কয়েক দিন ধরে চলা আগুনে জাতীয় উদ্যানটির বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্যান কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৬ হেক্টর বা ৪৩৪ দশমিক ৯১ একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দাবানল প্রায় ৬০ হেক্টর এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর আগুনের বিস্তার বেড়ে ১৭৬ হেক্টরে পৌঁছায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত উদ্যান কর্তৃপক্ষের ভিডিওতে রাতের বেলায় পাহাড়ের ঢালজুড়ে আগুনের শিখা দেখা গেছে।
পর্যটক, উদ্যানকর্মী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই পর্যটন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগে থেকে টিকিট কেনা পর্যটকদের ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণ বাতিল করতে চাইলে টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের মাউন্ট ব্রোমো এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দমকল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পূর্ব জাভার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, পানি ছিটানোর সক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টারের পাশাপাশি পানি বহন ও ছিটাতে পারে এমন ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
তবে পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে দাবানল নেভানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ অনুসন্ধান নিয়েও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের বিস্তার এবং পর্যটন এলাকায় পৌঁছে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল