বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশের মধ্যে প্যারাগুয়ে ও বেলিজ দুটি দেশ, যারা এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের অবস্থান, তাইওয়ান তাদের একটি প্রদেশ এবং আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার দ্বীপটির নেই। তবে বেইজিংয়ের এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান সরকার।
বিশ্লেষকদের কাছে নিষেধাজ্ঞার এ পদক্ষেপকে অনেকটা প্রতীকী বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর মন্ত্রীরা সাধারণত চীন সফরে যান না। এর আগে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন জানানো পশ্চিমা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্যারাগুয়ে ও বেলিজের কয়েকজন রাজনীতিক নিজ নিজ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘চীনবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা দুটি বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞার শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুই মন্ত্রী হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশের ভিসা পাবেন না। পাশাপাশি চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে ব্যবসা, সহযোগিতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না।
সম্প্রতি তাইওয়ান ও বেলিজের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও হয়েছে। গত মাসে বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকার সঙ্গে বৈঠক করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং। এর আগে জুনে প্যারাগুয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী গুস্তাভো ভিয়ালাতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি।
তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে চীন। বেইজিংয়ের উদ্দেশ্য, এসব দেশকে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উৎসাহিত বা বাধ্য করা।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্কের অবসান ঘটায় হন্ডুরাস।
নিউজ বাংলা চ্যানেল