ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষাশিল্প দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানকে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা বলেন ভাহিদি। আলজাজিরার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের কথা জানানো হয়েছে।
ভাহিদির ভাষ্য, ইরান বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের সমন্বিত সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শত্রু ও ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশটি একটি শক্ত প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি করেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতারও প্রশংসা করেন আইআরজিসি প্রধান। তাঁর দাবি, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই শিল্প দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই ভাহিদির এই বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের ঘোষিত অভিযানের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত। এর মধ্যে তেল পাচারকারী নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন নামে পরিচালিত ভুয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
৭৭ ডব্লিউএবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শিগগিরই সেটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের কৌশলকে ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন নামে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগ সফল হয়নি এবং নতুন ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানও’ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। আরাগচির বক্তব্য, ইরান আগেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ মোকাবিলা করেছে; কৌশল একই থাকলেও শুধু চাপ প্রয়োগকারীদের নাম বদলেছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘেইর গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
নিউজ বাংলা চ্যানেল