ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরেছেন নেইমার। প্রায় এক যুগ আগে ইউরোপে পাড়ি জমানোর পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৩ সালের জুনে নানা আলোচনা ও রেকর্ডের মধ্য দিয়ে সান্তোস ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনায় প্রথম মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুব বেশি আলোচনায় আসতে পারেননি নেইমার। তবে ২০১৪-১৫ মৌসুমে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তাঁর জুটি গড়ে তোলে ঐতিহাসিক আক্রমণভাগ ‘এমএসএন’। এই তিন তারকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং কোচ লুইস এনরিকের কৌশলী পরিচালনায় ২০১৫ সালে ট্রেবল জেতে কাতালান ক্লাবটি। বার্সেলোনার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয় সেই সাফল্য।
ক্লাবটিতে চার বছরের অধ্যায়ে নেইমার জিতেছেন দুটি লা লিগা, তিনটি কোপা দেল রে এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। ২০১৫ সালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দলের তৃতীয় ও জয়সূচক গোলটিও করেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে ১৮৬ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ১০৫। এরপর ২০১৭ সালে সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার।
প্যারিসের ক্লাবটিতেও শিরোপা জয়ের হিসাবে বেশ সফল ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। পিএসজির জার্সিতে ১৭৩ ম্যাচে ১১৮ গোল করার পাশাপাশি জিতেছেন পাঁচটি লিগ ওয়ান, তিনটি ফরাসি কাপ, দুটি লিগ কাপ এবং তিনটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। তবে ক্লাবটির দীর্ঘদিনের অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতাতে পারেননি তিনি। ২০২০ সালের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় পিএসজি। পরে ২০২৩ সালে প্যারিসের ক্লাব ছাড়েন নেইমার এবং সৌদি প্রো লিগের দল আল হিলালে যোগ দেন।
বার্সেলোনায় এমএসএন জুটির সময়টিকে অনেকে নেইমারের ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি অধ্যায় হিসেবে দেখলেও তাঁর নিজের মূল্যায়ন ভিন্ন। শিরোপা কিংবা দলীয় সাফল্যের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের উন্নতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নেইমার বলেন, ‘আমি জানি লোকেরা এমএসএনের সঙ্গে বার্সেলোনায় কাটানো সময়টাকেই আমার সেরা সময় বলে মনে রাখবে। কিন্তু একজন ফুটবলার হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়নে, প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে কাটানো সময়টিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের সেরা। ওই বছরগুলোতে আমি নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিময় এবং মাঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান একজন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলাম।’
নিউজ বাংলা চ্যানেল