নিজস্ব প্রতিবেদন
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়। বিদায়ী ম্যাচে শুধু জয়ই নয়, গোল ও অ্যাসিস্টে নিজের চেনা সামর্থ্যেরও জানান দিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে আবেগঘন বক্তব্যে সতীর্থ, সমর্থক ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই মহাতারকা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে আর্জেন্টিনার স্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান তিনি।
তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় ছিল মেসির বিদায়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। শেষ বাঁশির পর দীর্ঘ বক্তব্যে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলার সুযোগ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যগুলোর একটি। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় কঠিন সময় এলেও তিনি কখনো লড়াই থামাননি। বরং প্রতিবারই নিজের সর্বস্ব দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছেন।
বিদায়ের মুহূর্তে মেসি বলেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে আর খেলতে না পারাটা তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেবে। সুযোগ থাকলে সারা জীবনই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাইতেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিও উঠে আসে মেসির বক্তব্যে। তিনি বলেন, সেই বিশ্বকাপে শুধু তাঁর নিজের স্বপ্ন নয়, পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণের আকাঙ্ক্ষা ছিল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় করে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। একই সঙ্গে কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাসহ জাতীয় দলের হয়ে অর্জিত সাফল্যের জন্য সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মেসি বলেন, এই সাফল্য কেবল ২০২২ সালের বিশ্বকাপ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের অর্জন নয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বহু আগে থেকেই অসংখ্য সতীর্থ আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য তাঁর সঙ্গে লড়াই করেছেন। প্রত্যেকের অবদান তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন।
জাতীয় দলের সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন শহর থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থকদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানেই আর্জেন্টিনা খেলেছে, সেখানেই সমর্থকদের ভালোবাসা দলকে নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি দিয়েছে।
সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, কঠিন সময় এলেও জাতীয় দলের পাশে থাকতে হবে। দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সমর্থকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্তাদিও মনুমেন্তালকে ঘিরে থাকা বিশেষ স্মৃতির কথাও স্মরণ করেন মেসি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচটিকে জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর বিদায়ের এই দিনটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি।
আবেগঘন বক্তব্যের শেষদিকে মেসি তাঁর বাবার কথা স্মরণ করেন। অতীতের স্মৃতি ও আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, জাতীয় দলের হয়ে আর খেলতে না পারাটা তিনি খুব মিস করবেন। তবে ভবিষ্যতেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদায়ের আগে মেসির শেষ কথাগুলোতেও ছিল আর্জেন্টিনার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও গর্ব। তিনি বলেন, একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে তিনি গর্বিত এবং কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়েই জাতীয় দল থেকে বিদায় নিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মাঠে গোল, অ্যাসিস্ট ও জয়—সবকিছু দিয়েই নিজের শেষ অধ্যায়টি স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
নিউজ বাংলা চ্যানেল