মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা। গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে তাদের শুনানি শেষ করে। ওই সময় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানানো হয়। তবে আসামিপক্ষের ডিসচার্জ বা অব্যাহতির আবেদনের শুনানি এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর আগে ২১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মামুনুর রশিদ, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন।
মামলার আট আসামির মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
অন্য ছয় আসামি পলাতক। তারা হলেন দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও সোয়াট সদস্যরা নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করেন। পরে তাদের জঙ্গি হিসেবে প্রচার করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে বিভিন্ন জায়গা থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি হিসেবে পরিচয় দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নেওয়ার পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আট আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল