ঢাকা | খ্রি.

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন ও জোনভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 29, 2026 ইং | Photo Card
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন ও জোনভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট জোন এবং জিপিএস নজরদারি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনে নির্ধারিত সংখ্যক রিকশা চলবে এবং এক জোনের রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রাথমিকভাবে দুই সিটির ফিডার সড়কে মোট আট লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কালবেলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ই-মোবিলিটি ও ব্যাটারি সোয়াপিং সিস্টেম রোল-আউট পরিকল্পনা (ঢাকা শহর)’ শীর্ষক নথিতে এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩ ও ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় নিবন্ধন, রুট, চালকের লাইসেন্স, রিকশা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মহানগরে প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশার কোনো নিবন্ধন নেই। রাজধানীর বাইরে রয়েছে আরও প্রায় ৪০ লাখ। নথিতে বলা হয়েছে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব রিকশা চলাচলের কারণে রাজধানীতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

প্রস্তাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ২৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ১৭০ কিলোমিটার ফিডার সড়কে চার লাখ করে মোট আট লাখ রিকশা চালানোর অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এসব রিকশা প্রধান সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

জোনভিত্তিক চলাচল নিশ্চিত করতে অনলাইনে জিপিএস ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অফলাইনে রিকশার গায়ে আলাদা রং এবং নম্বরপ্লেটে জোনভিত্তিক কোড ব্যবহার করা হবে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনায় বুয়েট অনুমোদিত নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধনের পর সড়কে নামানোর কথা বলা হয়েছে। পুরোনো রিকশা বদলে নতুন রিকশা দেওয়ার জন্য এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির প্রস্তাবও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো গাড়ির মূল্য নতুন গাড়ির দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ মালিক নিজে অথবা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

দেশীয় দুই সিটের রিকশার সম্ভাব্য দাম ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোনো গাড়ির মূল্য সমন্বয়ের পর নতুন রিকশা কিনতে প্রায় দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

খসড়া সিদ্ধান্তে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এই সময় শেষ হলে রিকশাটির নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই সিটের রিকশার নিবন্ধনের জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা এবং প্রতি বছর নবায়নে ৩ হাজার টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য চালকের লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া বন্ধ করতে নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত চার্জিং ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যাটারি সোয়াপিং চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত ব্যাটারি খুলে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে চার্জ করা ব্যাটারি বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চার লাখ রিকশার প্রয়োজন মেটাতে স্টেশনের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এক হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন স্থাপন করতে হতে পারে। প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ হিসেবে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থায়ন কাঠামোয় গ্রিন ফান্ড থেকে ৭০ শতাংশ, সরকারি প্রণোদনা থেকে ২০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ থেকে ১০ শতাংশ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
২২ বছর সুইডেনে থাকার পর ব্রিটিশ বিধবাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

২২ বছর সুইডেনে থাকার পর ব্রিটিশ বিধবাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ