ঢাকা | খ্রি.

ভারতের উত্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে: রুশ রাষ্ট্রদূত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 28, 2026 ইং | Photo Card
ভারতের উত্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে: রুশ রাষ্ট্রদূত ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : ভারতকে আরেকটি চীনে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রকাশ্য মন্তব্যকে ‘অজান্তে সত্য প্রকাশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতকে ভবিষ্যতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে ওঠা থেকে নিয়ন্ত্রণের মার্কিন অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

রবিবার এনডিটিভির প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলিপভ এসব কথা বলেন। তার দাবি, চলতি বছর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত রাইসিনা সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ভারতকে পরবর্তী চীনে পরিণত হতে দেবে না।’

আলিপভের ভাষ্য, এখানে ‘পরবর্তী চীন’ বলতে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে চীনকে বোঝানো হয়েছে। তার মতে, এই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভারত যত শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে, যুক্তরাষ্ট্র তত বেশি দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত পরাশক্তিতে পরিণত হবে—এটি তার কাছে অনিবার্য। একই সঙ্গে ভারতকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন আলিপভ। তিনি ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আইন, ২০২৬’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইনটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারত এরই মধ্যে মার্কিন চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আলিপভ মার্কিন নীতির সমালোচনা করেন।

আলিপভ বলেন, ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পেছনে রাশিয়ার স্বার্থ নয়, বরং ভারতের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থই কাজ করছে। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যায়। ফলে ভারত নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করেই তা কিনছে।

তার মতে, রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান দেশটির কৌশলগত স্বাধীনতার প্রতিফলন। আলিপভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির কথা বলছে। তার দাবি, ভারত যত এগিয়ে যাবে, দেশটির ওপর এ ধরনের চাপ ও কৌশল অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।

ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন রুশ রাষ্ট্রদূত। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও রাশিয়া সেই সম্পর্ক অব্যাহত রাখে।

আলিপভ বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। তার ভাষ্য, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না, তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও একবার দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চলে আসছে উল্লেখ করে আলিপভ বলেন, আগামী বছর ভারত ও রাশিয়া তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করবে। তার মতে, কয়েক দশকে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এলেও দুই দেশের সম্পর্ক টিকে থাকার অন্যতম কারণ হলো, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে তৎকালীন বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করেনি।

রুশ রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, এই সম্পর্ক শুধু রাশিয়ার কাছে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্বের বিষয় নয়; ভারতও রাশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশ কখনোই নিজেদের সম্পর্ককে এমনভাবে দেখেনি যে এক পক্ষের লাভ অন্য পক্ষের ক্ষতির কারণ হবে।

বছরের পর বছর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন দুই দেশের সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আলিপভ। তার মতে, এই ভিত্তির ওপর ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনের ফাঁকে তাদের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলিপভ বলেন, ওই বৈঠকসহ ব্রিকস সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনা থেকে বোঝা গেছে, রাশিয়া ও ভারতসহ সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। তার মতে, ব্রিকসের দেশগুলো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং এমন একটি বিকল্প আলোচনার প্ল্যাটফর্ম চায়, যেখানে সব দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, ভারত ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে রাশিয়াও এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সব দেশের মতামত গুরুত্ব পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬০

ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬০