মঙ্গলবার কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পুতিন। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এটিই তার সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনারা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একপর্যায়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী ভেঙে পড়বে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভেঙে পড়বে—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ তবে এমন পরিস্থিতি ঠিক কখন তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, এসব ড্রোন হামলা রাশিয়ার সামনে বিশেষ ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুতিনের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রুশ সেনারা দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি রাশিয়া নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জেলেনস্কির ওই সতর্কতাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে তুলনা করেন পুতিন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মস্কো তার জবাব দেওয়ার পথ খুঁজে নেবে বলেও জানান তিনি।
তবে ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয় বললেও সংঘাত নিরসনে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন গতি তৈরি করা গেলে মস্কো ‘সুনির্দিষ্ট’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
পুতিনের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে রাশিয়ার আপত্তি থাকলেও সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় মস্কো।
নিউজ বাংলা চ্যানেল