ঢাকা | খ্রি.

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় লাতিন আমেরিকার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2026 ইং | Photo Card
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় লাতিন আমেরিকার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির আশঙ্কা, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তার থেকেও অধিকাংশ দেশ উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছে না।

মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এআই খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিটির ব্যবহার জ্বালানিসংকটের অভিঘাত মোকাবিলায় সহায়তা করছে। কিন্তু লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশ সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। গত জুলাইয়ে ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। এবার সেই হিসাব আরও কমানো হয়েছে। একইভাবে ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির হিসাব কমালেও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদী আইএমএফ। সংস্থাটি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করেছে।

আইএমএফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরি এবং এআই খাতে বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিভিন্ন সংকটের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়েছে।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কতটা পড়বে, তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর বাড়তি আয় দিয়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষতি কতটা পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি মানুষের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি নেমে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। গত জুলাইয়ে চলতি বছরের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির হিসাবও ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

ব্রাজিলের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য আগের ২ দশমিক ৪ শতাংশের পরিবর্তে ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারণা দিয়েছে আইএমএফ। ২০২৭ সালের পূর্বাভাসও ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। একই সময়ে সরকার আর্থিক সহায়তা কমিয়ে আনছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা যুক্ত হয়ে দেশটির প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে। গত জুলাইয়ে চলতি বছর ব্রাজিলের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে থাকবে বলে আশা করলেও নতুন পূর্বাভাসে আগামী বছর প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মেক্সিকোর চলতি বছরের পূর্বাভাসে উন্নতি

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিপরীতে মেক্সিকোর ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। দেশটির অর্থনীতি চলতি বছর ১ দশমিক ২ শতাংশের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

মেক্সিকোর রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা এ সংশোধনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এসব রপ্তানিপণ্যের মধ্যে এআই প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যও রয়েছে। এ ছাড়া আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ২০২৭ সালের জন্য মেক্সিকোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে। আইএমএফের মতে, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

চিলি, বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

আইএমএফের প্রতিবেদনে চিলি ও বলিভিয়ার অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে চিলির অর্থনীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়লেও ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বলিভিয়ার অর্থনীতি ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি আরও ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

ভেনেজুয়েলায় মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ২৫২ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪৬৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকির সতর্কতা

আইএমএফ সতর্ক করেছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বেশি চাপে পড়তে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে এসব দেশের সরকারের ঋণ গ্রহণের ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, জ্বালানির বাড়তি দাম, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে এসব কারণে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে কুমিল্লার মহাসড়কজুড়ে বিএনপির

প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে কুমিল্লার মহাসড়কজুড়ে বিএনপির