ঢাকা | খ্রি.

যুদ্ধের ছয় মাসে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে ইরান, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 29, 2026 ইং | Photo Card
যুদ্ধের ছয় মাসে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে ইরান, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে ইরান। নিষেধাজ্ঞা, বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধাক্কায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতারাও অর্থনীতির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সরকারকে অর্থনৈতিক সংকটের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নামে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্য ও সেবার বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির এক হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের কারণে দেশটির আমদানি-রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল। ওই সময় প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল ইরান বলে জানান পেজেশকিয়ান।

এদিকে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক প্রতিশোধের হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তুলে ধরছেন তারা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হলেও সংঘাত বন্ধের আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাকে তারা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কমাতে বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

তবে ইরানের দুই বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও ভারতের বিরুদ্ধে এখনো মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। এসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার অভিযোগে মিসরের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা ব্যাংক মিসরের শাখাগুলোর মার্কিন ডলারে লেনদেন বন্ধের জন্য নতুন একটি নিয়মের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা ব্যাংক মিসরের শাখাগুলোর ডলার লেনদেন এবং অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের ব্যাংক মিল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।

ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আরেকটি বড় কারণ মূল্যস্ফীতি। গত মাসে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।

অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও নতুন করে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতির মতো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওই বৈঠককে ‘সৃজনশীল’ বলে উল্লেখ করেন।

জুনের সমঝোতা স্মারক তৈরিতে কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দুই দেশই ইরানের প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। ওই সমঝোতার মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে তা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।

এরপর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের দাবি, কয়েক মাস আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রণালিতে যেসব সমুদ্র মাইন স্থাপন করেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে।

তবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা ট্রাম্পের দাবিকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরানি বাহিনী আবারও জানিয়েছে, ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত নয়।

জাহাজ চলাচলের সাম্প্রতিক তথ্যেও প্রণালিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৭টি। আর গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে।

ফলে যুদ্ধের ছয় মাসে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়াচ্ছে, আর ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ধরে রেখেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্