ঢাকা | খ্রি.

বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম থাইল্যান্ড সফরে মিন অং হ্লাইং

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 6, 2026 ইং | Photo Card
বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম থাইল্যান্ড সফরে মিন অং হ্লাইং ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক : মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন। বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম থাইল্যান্ড সফর। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারের সম্পর্ক আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন তিনি।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে। এপ্রিলের নির্বাচনের পর মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন ও পশ্চিমা দেশগুলো ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে। অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ সীমিত করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংককে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। আর বেসামরিক পোশাকে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইং ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও লাওস সফর করেছেন। এবার তার সফরের গন্তব্য থাইল্যান্ড।

থাইল্যান্ড যাত্রার আগে গৃহবন্দি অং সান সু চি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎ।

মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস মনে করেন, দেশটি যদি আবার আসিয়ানের পূর্ণ সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে তার মতে, ভারত, চীন, রাশিয়া ও থাইল্যান্ডের সমর্থন পাওয়ায় আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন মিয়ানমারের জন্য এখন অপরিহার্য নয়; বরং এটি অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে।

স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসনের মতে, আসিয়ানে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য মর্যাদার বিষয়। তিনি বলেন, একদিকে মিন অং হ্লাইং নিজেকে আসিয়ানের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে তুলে ধরতে চান, অন্যদিকে সংঘাত নিরসনে সংগঠনটির প্রস্তাবিত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেননি।

থাইল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি একটি ব্যবসায়িক ফোরাম ও সরকারি নৈশভোজেও অংশ নেবেন। দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে মিন অং হ্লাইংকে থাইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলোর কয়েকটি তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের বাস্তব স্বার্থ রয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে চলমান সংঘাত, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখো শরণার্থী, সীমান্ত এলাকায় সাইবার প্রতারণা চক্র এবং অবৈধ মাদক পাচার—সবই থাইল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেট জানিয়েছেন, মিন অং হ্লাইংয়ের সফরে সাইবার প্রতারণা দমনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

একই সঙ্গে অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতিনিধির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন নৌ হামলায় নিহত ৪

ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন নৌ হামলায় নিহত ৪