ঢাকা | খ্রি.

ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচে অর্থ ও ফিফা নিয়মের জটিলতা, অনিশ্চয়তায় আয়োজন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2026 ইং | Photo Card
ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচে অর্থ ও ফিফা নিয়মের জটিলতা, অনিশ্চয়তায় আয়োজন ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক:  ব্রাজিলের মতো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। একদিকে ফিফার ম্যাচ উইন্ডোর নিয়ম, অন্যদিকে বিপুল আয়োজন ব্যয়—দুই দিক থেকেই বাধার মুখে পড়েছে প্রস্তাবিত ম্যাচটি।

আগামী ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ঢাকায় ব্রাজিলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে গত রোববার ঢাকায় আসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রতিনিধিদল। এরপর থেকেই ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্রাজিলের মতো একটি দলের বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয় সরকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। তবে এত অর্থ খরচ করে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে নয় সরকার।

আমিনুল হক বলেন, দেশের জ্বালানি সংকটসহ বিদ্যমান অর্থনৈতিক সমস্যার সময়ে একটি ফুটবল ম্যাচের পেছনে এত অর্থ ব্যয়ের মানসিকতা সরকারের নেই। তবে বাফুফে যদি বেসরকারি স্পনসর জোগাড় করে ম্যাচটি আয়োজন করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এর আগে সোমবার বাফুফের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, ম্যাচ আয়োজনের জন্য সরকারের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে এখন স্পষ্ট হয়েছে, সরকারি অর্থায়নের সুযোগ নেই। ফলে পুরো আয়োজনের ব্যয় বহনের জন্য বাফুফেকে বেসরকারি স্পনসর ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাংলাদেশে এর আগে বড় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও খুব সস্তা নয়। ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার ম্যাচ আয়োজন করতে বাফুফের প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল। তখনকার হিসাবে যা ছিল প্রায় ২৬ থেকে ২৭ কোটি টাকা। করপোরেট স্পনসরশিপ, ব্যাংকঋণ এবং চড়া দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সেই ব্যয় সামাল দিতে হয়েছিল।

এবারও যদি প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় হয়, তাহলে সেই অর্থ বেসরকারি খাত থেকে সংগ্রহ করা বাফুফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচটি যদি সরকারি অর্থায়ন ছাড়া আয়োজন করতে হয়, তাহলে স্পনসরশিপ, সম্প্রচারস্বত্ব ও টিকিট বিক্রির সম্ভাব্য আয় দিয়ে বড় অঙ্কের ব্যয় সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

তবে অর্থের বিষয়টি একমাত্র বাধা নয়। ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোর নিয়মও প্রস্তাবিত ম্যাচটির পথে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চারটি ‘টায়ার-১’ ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে আসিয়ান কাপের চারটি ম্যাচ দিয়ে সেই সীমা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি আয়োজন করা হলে সেটি বাংলাদেশের জন্য পঞ্চম ‘টায়ার-১’ ম্যাচ হয়ে যাবে।

এই নিয়মগত জটিলতার সমাধান না হলে শুধু অর্থের ব্যবস্থা করলেই ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তাই বাফুফেকে একই সঙ্গে ফিফার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং ব্রাজিলের প্রস্তাবিত সূচি—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করতে হবে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
আইসিসিবিতে দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ভিড়, চলছে কসমেটিকা ঢা

আইসিসিবিতে দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ভিড়, চলছে কসমেটিকা ঢা