সোমবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন থাকলে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর নয়াপল্টন শাখায়, যা আগে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিত ছিল, টাকা তুলতে আসেন শারমিন জাহান। তিনি গত ৩ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাঁর ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তাঁকে ওই অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়।
শারমিন জাহান বলেন, ‘আমি গত ৩ সেপ্টেম্বর টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছি। নিয়ম অনুযায়ী আরো দুদিন পর টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাচ্চা অসুস্থ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে তিনি আমাকে ২০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি দেন। ব্যাংকে এসেই জরুরি টাকাটা পেয়ে গেছি।’
অন্যদিকে, টাকা তুলতে শাখায় এসেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয় আরেক গ্রাহক দিদারকে। তিনি জানান, এর আগে কয়েকবার টাকা তুলতে এসে তাঁকে ফিরে যেতে হয়েছে। এবারও ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করার কারণে আরও দুই দিন পর টাকা পাওয়া যাবে বলে শাখা থেকে জানতে পারেন।
দিদার বলেন, ‘যাঁরা ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছেন, মূলত আজ তাঁরাই টাকা পাচ্ছেন। আমার আবেদন ৩ সেপ্টেম্বরের। তাই আরো দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আজ অন্য গ্রাহকদের টাকা তুলতে দেখে আশ্বস্ত হয়েছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই আমার টাকাও পাব।’
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার আগে তাদের ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের কোনো ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর দিয়ে সিস্টেমে যাচাই করা হচ্ছে তাঁর কোনো খেলাপি ঋণ আছে কি না। কারও খেলাপি ঋণ পাওয়া গেলে বা ঋণের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ওই গ্রাহকের টাকা তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্য এক কর্মকর্তা জানান, কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণ না থাকলে তিনি নির্ধারিত নিয়ম মেনে টাকা তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করছে।
আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ব্যাংকে আমানত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ব্যাংকটির দায়িত্ব এখন সরকার নিয়েছে এবং পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
নিউজ বাংলা চ্যানেল