জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য পাঁচ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ৮৫০ জন শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ৫৯ হাজার ৭০০ জন এখনো আশ্রয়প্রার্থী। তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে অথবা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের প্রায় পুরো অংশই পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে সর্বাধিক আবেদন হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২১ সালে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১। পরের বছর এ সংখ্যা কমে ৯ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ৩৯৬ এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫৪০ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন।
একই পাঁচ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩ জন।
পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার সোমালিয়ায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন। নামিবিয়ায় ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।
পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক কম। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ জন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেন। ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে আবেদন করেন পাঁচজন। এই অঞ্চলের কোনো দেশে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশিদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।
উত্তর আফ্রিকার মধ্যে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মরক্কোয়। দেশটিতে ২০২১ সালে ৭২ জন বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে ১৬, ২০২৩ সালে ১৪, ২০২৪ সালে ১০ এবং ২০২৫ সালে ১৯ জন আশ্রয়ের আবেদন করেন। পাঁচ বছরে মরক্কোয় বাংলাদেশিদের মোট ১৩১টি আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে।
মিসরে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর পাঁচজন করে বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তিউনিসিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজন এবং আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। ফলে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তুলনামূলক কম খরচে বিকল্প পথ হিসেবেও অনেকে আফ্রিকার দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।
অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশিদের একটি অংশ তুলনামূলক অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন করছেন। এসব দেশে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে যাওয়ার সুযোগ সহজ হতে পারে।
আসিফ মুনীর আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী প্রবাসী নেটওয়ার্ক রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে লোকজন যাওয়ার কারণে সেখানে চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ও তিউনিসিয়ার মতো দেশগুলো ইউরোপে প্রবেশের ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজ বাংলা চ্যানেল