ঢাকা | খ্রি.

সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বাজার ও বাসাবাড়িতে, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং | Photo Card
সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বাজার ও বাসাবাড়িতে, অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য স্থাপিত নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংলগ্ন রাঙ্গাদিয়া বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এভাবে কারখানার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিইউএফএলের দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি প্রতিদিন ১ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতাও ছিল কারখানাটির।

তবে গত কয়েক বছরে দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটি ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এবার কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সিইউএফএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য রয়েছে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট। কারখানায় স্থাপিত স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ব্যবস্থায় দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ১২ মেগাওয়াট করে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রায় ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এ ব্যবস্থায়। কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উচ্চচাপের বাষ্প কাজে লাগিয়েই মূলত এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী বলেন, দুটি ইউনিটের মাধ্যমে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-১ ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-২-এও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও আশপাশের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকার বেশি বিল আদায় হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। আবার কোনো কোনো গ্রাহকের বিল বকেয়া থাকলেও বিদ্যুৎ ব্যবহার অব্যাহত রাখার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার পর ওই সংযোগ ব্যবহার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও আবাসিক স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাজী আমিনুল হক বলেন, শুরু থেকেই এসব এলাকায় সিইউএফএল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকার মতো বিল আসে এবং তা পরিশোধ করা হয়। করোনাকালে কিছু বিল বকেয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিক্রির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ট্যারিফ, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, মিটারিং, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি শর্ত পূরণের বিষয়ও রয়েছে।

কিন্তু সিইউএফএলের বিদ্যুৎ বাজার ও আবাসিক এলাকায় সরবরাহের ক্ষেত্রে এসব অনুমোদন ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগে থেকেই এ ব্যবস্থা চলে আসছে। কী নিয়মে এবং কীভাবে এটি শুরু হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি সার কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে কারখানার বাইরের দোকান ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে, এর বৈধতা কী এবং এর মাধ্যমে আদায় করা অর্থ কোন খাতে জমা হচ্ছে—এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন হামলা চালাল ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন হামলা চালাল ইসরায়েল