ঢাকা | খ্রি.

অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের হার ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 24, 2026 ইং | Photo Card
অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের হার ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ায় আগস্টে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও বেকারত্বের হার বেড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন করে আরও মানুষ কাজের সন্ধানে যুক্ত হওয়ায় এই হার বেড়েছে বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে ৩৯ হাজার ৫০০টি। অথচ জুলাইয়ে কর্মসংস্থান ১৫ হাজার ৮০০টি কমেছিল। আগস্টে ২০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে বলে বাজারের পূর্বাভাস থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

তবে কর্মসংস্থানের সব সূচকে একই ধরনের উন্নতি দেখা যায়নি। আগস্টে পূর্ণকালীন চাকরি কমেছে ৬ হাজার ৩০০টি। এর মধ্যেই বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে উঠে যায়। বাজারে এ হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস ছিল। ২০২১ সালের শেষ দিকের পর আগস্টেই অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ হয়েছে।

শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিও বেকারত্বের হার বাড়ার অন্যতম কারণ। আগস্টে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৬৭ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে কর্মীদের মোট কাজের সময়ও বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান শন ক্রিক বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় আগস্টে শ্রমবাজারের বাইরে থাকা মানুষের একটি বড় অংশ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। তারা চাকরি না পাওয়ায় বেকার হিসেবে গণনায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁর মতে, শ্রমশক্তির আকার বাড়ার কারণেই অংশগ্রহণের হার বেড়েছে। অর্থাৎ বেকারত্ব বৃদ্ধির পেছনে শুধু কর্মসংস্থান কমে যাওয়া দায়ী নয়; নতুন করে চাকরি খুঁজতে আসা মানুষের সংখ্যাও এতে ভূমিকা রেখেছে।

শ্রমবাজারের এই মিশ্র চিত্রের পরও অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তন আসেনি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগামী সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে। এ বছর এটি হবে সুদের হার বাড়ানোর চতুর্থ দফা। বাজারে এখন প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে যে সুদের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

তবে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর অস্ট্রেলীয় ডলারের দর কমেছে। বৃহস্পতিবার মুদ্রাটির মূল্য শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে এক অস্ট্রেলীয় ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৭০২৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। এটি প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে অস্ট্রেলীয় ডলারের সর্বনিম্ন দর। এর আগের রাতেও মুদ্রাটির দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশটির শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারটি এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মিশেল বুলক চলতি সপ্তাহে বলেছেন, বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর ইতোমধ্যে তিন দফা সুদের হার বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা মহামারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়। তবে সুদের হার বাড়ানোর পরও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দেশটির মূল মূল্যস্ফীতি এখনো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে।

মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক রয়েছে। মিশেল বুলক বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগের বড় ধরনের বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠেছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত