শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে, যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সকাল থেকেই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেও দুর্গাপূজা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। রাতে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে তা থেকে রক্ষা পেতে অনেক দর্শনার্থী মণ্ডপের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেক দর্শনার্থী চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঘটনাস্থলে এসটিএফ, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার তৎপরতার সময় ঘটনাস্থলের ভিড় কমে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, এ ঘটনায় শোক প্রকাশের ভাষা নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। গুরুতর আহত ২৫ জনকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত শোকাবহ ঘটনা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোর আয়োজকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ বৃষ্টি হচ্ছে, কোথাও থিমভিত্তিক পূজার আয়োজন করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেশি। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আয়োজকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোক প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি কলকাতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং জানান, প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারগুলোর এই কঠিন সময় মোকাবিলায় শক্তি ও সাহস প্রার্থনা করেন তিনি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চোরবাগান পূজামণ্ডপ এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে কলকাতা পুলিশ।
নিউজ বাংলা চ্যানেল