নিজস্ব প্রতিবেদন
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইওএমের বিবৃতি অনুযায়ী, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নৌকাটি ডুবে যায়। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। জিবুতির পূর্ব উপকূলের কাছে গুহেরে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি এডেন উপসাগরে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত।
নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা ও তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা দিতে সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। তিনি এ ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) কোয়েসাক বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা মূলত জিবুতির কর্তৃপক্ষের দাফন করা মরদেহের হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিবাসীদের কেউ কেউ নিজেরাই মরদেহ দাফন করেছেন। সেসব মরদেহ যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে এই অভিবাসনপথ পাড়ি দিতে গিয়ে মানুষ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েন, এ দুর্ঘটনা তারই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে অন্যত্র যাওয়ার আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীদের প্রাণহানির ঘটনা আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী এডেন উপসাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীসংলগ্ন জলপথে নৌযাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল