ঢাকা | খ্রি.

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা, আটক ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 18, 2026 ইং | Photo Card
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা, আটক ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদন

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দেশটির ১১০টি মিছিলে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও অন্যান্য আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

রাজধানী প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি, পাথর ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ও অন্যান্য বস্তুতে আগুন দেওয়া হয়। বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের পাশাপাশি ব্যাংক ও বিপণিবিতানে ভাঙচুর চালানো হয়। তবে মূল মিছিলের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্যারিসের বাইরে লিমোজ শহরেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সিটি হলে আগুন দেওয়ায় ঐতিহাসিক ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়েও আগুন লাগে। শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসে এ ঘটনাকে নগরীর জন্য ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সিটি হলের প্রবেশপথের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ ছাড়া লিল, গ্রেনোবল, রেন ও তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতার মাধ্যমে সরকারকে ভয় দেখিয়ে কেউ নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে পারবে না। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে আটক এবং ১৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য দেন তিনি। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারি ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং জনসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই এবারের বিক্ষোভের সূত্রপাত। গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি উপশহরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকের সংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে পরে শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষক, কৃষক, পেনশনভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন।

২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরাও এবারের বিক্ষোভে অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠন সিজিটি মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো। তবে তিনি লুটপাটের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু তাঁর অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, সহিংসতার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও জনসেবার সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসন্তোষ এক জায়গায় এসে মিলিত হওয়ায় আন্দোলনটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভের পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার পুনরুদ্ধার এবং সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এখন ফরাসি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পরও গাজায় হামলা, নিহত ১৯

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পরও গাজায় হামলা, নিহত ১৯