দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বিভিন্ন শহরে এখন কৃত্রিম দুর্যোগের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য বিশেষ কেন্দ্র ও জাদুঘর গড়ে উঠেছে। হ্যাংঝৌ শহরের ‘লুজিং বেস’ নামের ২ লাখ ২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি কেন্দ্রে কৃত্রিমভাবে টাইফুন ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সেখানে অর্থের বিনিময়ে অংশ নিয়ে হাজারো মানুষ দুর্যোগের ভয়াবহতা অনুভব করার পাশাপাশি তা থেকে বেঁচে থাকার উপায় শেখেন।
এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বেইজিং ও গুয়াংঝৌতেও। এসব শহরে ফোর-ডি প্রযুক্তি ও বিশেষ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভূমিকম্প এবং অগ্নিকাণ্ডের অনুকৃত পরিবেশ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১০টি টাইফুন ও রেকর্ড পরিমাণ গরমের কারণে দেশটির প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে শান্ত থাকতে হবে এবং নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, তা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারগুলোকে বাস্তবভিত্তিক দুর্যোগ শিক্ষার প্রসার ঘটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম দুর্যোগের কেন্দ্রের পাশাপাশি চীনের তরুণদের মধ্যে অতীতের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘুরে দেখার আগ্রহও বাড়ছে। ২০০৮ সালে সিচুয়ানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া শহর এবং নানজিং গণহত্যার মতো ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির স্থানগুলোতে এখন তরুণ পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এসব স্থানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পেলেও আগাম বুকিং দিয়ে ভ্রমণ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্মের পর্যটকেরা কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তাঁরা কোনো স্থান ও ঘটনার গভীর অভিজ্ঞতাও পেতে আগ্রহী। দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল শেখার পাশাপাশি দেশের বেদনাদায়ক অতীত ও ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং দেশকে আরও শক্তিশালী করার প্রেরণা খুঁজতেও তরুণেরা এই ‘ডার্ক ট্যুরিজমে’ আকৃষ্ট হচ্ছেন।
নিউজ বাংলা চ্যানেল