ঢাকা | খ্রি.

‘জম্বি ড্রাগ’ ভিডিও ঘিরে পাঞ্জাবে বিজেপি-এএপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 11, 2026 ইং | Photo Card
‘জম্বি ড্রাগ’ ভিডিও ঘিরে পাঞ্জাবে বিজেপি-এএপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবে বিজেপি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে রাস্তার পাশে অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকা পাগড়ি পরা দুই ব্যক্তিকে দেখা যায়। এটিকে পাঞ্জাবের কথিত ‘জম্বি ড্রাগ’ সংকটের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হলেও পরে ভিডিওটির স্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

ভিডিওতে থাকা দুই ব্যক্তিকে দেখে মনে হয়, তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে কিংবা দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তারা মাদকের প্রভাবে ছিলেন। এরপর ভিডিওটি পাঞ্জাবের মাদক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

ভারতের বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য হরভজন সিং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করেন। সেখানে পাঞ্জাবের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজ্যের তরুণরা এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। মাদক সমস্যা মোকাবিলায় সততা, জবাবদিহি ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হরভজন সিংয়ের এই পোস্টের পর ভিডিওটি পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা মোকাবিলায় এএপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হয়ে ওঠে।

এর জবাবে পাঞ্জাবের মন্ত্রিসভার সদস্য ড. বলজিত কৌর অভিযোগ করেন, হরভজন সিং রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের একটি ভিডিওকে পাঞ্জাবের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিজেপি নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক নেতাদের খুশি করতেই হরভজন সিং এমনটি করেছেন। রাজনৈতিক স্বার্থে পাঞ্জাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেও তিনি প্রস্তুত বলে অভিযোগ করেন বলজিত কৌর।

তবে ভিডিওটির প্রকৃত স্থান নিয়ে এএপির বক্তব্যের বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ভিডিওতে থাকা দুই ব্যক্তি মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হলেও ওই দুই ব্যক্তি মাদক বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাবে ছিলেন—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

ফলে ভিডিওতে দেখা অস্বাভাবিক আচরণের ভিত্তিতে তাদের মাদকাসক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে এখানেই পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে ভিডিওটি পাঞ্জাবে মাদক সমস্যা নিয়ে বিজেপি ও এএপির রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি এটিকে ব্যবহার করে রাজ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে এএপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দলটির দাবি, তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে এএপির অভিযোগ, বিরোধীরা বিভ্রান্তিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য ব্যবহার করে পাঞ্জাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। রাজস্থানের একটি ঘটনাকে পাঞ্জাবের ঘটনা হিসেবে প্রচার করাকে সেই প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে দেখছে দলটি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স