ঢাকা | খ্রি.

সুইডেনের নির্বাচনে তিন আসনের ব্যবধান, এগিয়ে বাম জোট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 14, 2026 ইং | Photo Card
সুইডেনের নির্বাচনে তিন আসনের ব্যবধান, এগিয়ে বাম জোট ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এখনো কোনো জোটের জয় নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক ফলাফলে সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দেশটির পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিবিসি জানায়, সোমবার ভোরে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছিল। সে সময় বামপন্থী জোট প্রায় ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবেও আন্দেরসনের জোট সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

৯৪ শতাংশ ভোটের হিসাবে আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন জোট ১৭৬টি আসনে এগিয়ে ছিল। বিপরীতে বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ডানপন্থী জোটের অবস্থান ছিল ১৭৩ আসনে। অর্থাৎ দুই পক্ষের ব্যবধান মাত্র তিনটি আসন।

তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবধান বদলে যেতে পারে। সে কারণে সুইডেনের বড় কোনো সংবাদমাধ্যম এখনো কোনো পক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি।

দেশটির রাজনীতিতে দুটি প্রধান জোট রয়েছে এবং প্রতিটিতে চারটি করে দল রয়েছে। কোনো জোট এককভাবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়। তাই সুইডেনে জোট কিংবা সংখ্যালঘু সরকার গঠনের ঘটনা নতুন নয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দল। দলটির রাজনৈতিক শিকড় নব্য নাৎসিবাদে। ক্রিস্টেরসন ক্ষমতায় থাকলে দলটির সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। নির্বাচনে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সোমবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে ক্রিস্টেরসন বলেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ভোটাররা তাদের মতামত জানিয়েছেন, কিন্তু চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনো খোলা প্রশ্ন।

অন্যদিকে, রবিবার রাতে সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন আন্দেরসন। তবে তিনি জানান, বর্তমান ফলাফল অপরিবর্তিত থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই সুইডেনের রাজনীতিতে সামাজিক গণতন্ত্রী দল গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে দলটির নিজস্ব ভোট কমেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাবে দলটি প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার পথে ছিল। ফলটি চূড়ান্ত হলে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হতে পারে দলটির সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফল।

অবশ্য বামপন্থী জোটের কয়েকটি শরিক দলের সমর্থন বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাম দল, গ্রিনস ও সেন্টার পার্টি। অন্যদিকে, প্রাথমিক ফলাফলে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের ভোটও কমতে দেখা গেছে।

১৯৮০-এর দশকে নাৎসি সমর্থকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি দীর্ঘদিন সুইডেনের মূলধারার রাজনীতির বাইরে ছিল। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ওই নির্বাচনে অভিবাসন ও সহিংস অপরাধের মতো বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছিল দলটি। এবার ২০১০ সালে রিক্সদাগে প্রবেশের পর প্রথমবারের মতো দলটির সমর্থন কমার চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম।

রবিবার ভোট দেওয়ার পর আন্দেরসন নির্বাচনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুইডেন কি এমন সরকার চায়, যা পুরোপুরি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি এমন সরকার চায় যার নেতৃত্বে তিনি থাকবেন এবং নতুন রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবেন।

অন্যদিকে, ক্রিস্টেরসন বলেন, তার জোট যাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অব্যাহত রাখতে পারে, সেটিই মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, জনগণ চায় তার সরকার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যাক।

এবারের নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ এবং সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ভোট গণনা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর কোন জোট সরকার গঠন করবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

তবে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুইডেনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে আসন বণ্টন করা হয়। রিক্সদাগে কোনো দলের আসন পেতে সাধারণত অন্তত ৪ শতাংশ ভোট প্রয়োজন হয়। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ছোট দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ