ঢাকা | খ্রি.

হরমুজ সংকটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও ইতালিতে এলএনজি সরবরাহে কাতারের স্থগিতাদেশ বাড়ল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 ইং | Photo Card
হরমুজ সংকটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও ইতালিতে এলএনজি সরবরাহে কাতারের স্থগিতাদেশ বাড়ল ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিসহ এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারছে না কাতারি প্রতিষ্ঠানটি।

‘ফোর্স মেজর’ হচ্ছে এমন একটি চুক্তিগত ব্যবস্থা, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অন্য কোনো অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তির নির্ধারিত দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন না করার সুযোগ থাকে।

ব্লুমবার্গের শুক্রবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাতারএনার্জি জানিয়েছে, কয়েকটি এলএনজি চালান বাতিলের পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থার মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাকেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসনও কাতারএনার্জির সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিসন জানায়, ইতালিতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার সময় নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।

এডিসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি জাহাজের চালান দিতে পারবে না বলে প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়েছে কাতারএনার্জি। এর ফলে এপ্রিলের শুরু থেকে এডিসনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকা ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত গড়াল।

কাতারএনার্জির সরবরাহ দিতে না পারা এলএনজি জাহাজের সংখ্যা এডিসনের হিসাবে এখন ২৯টিতে পৌঁছেছে। তবে ঘাটতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে এডিসন। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার। দেশটির রপ্তানি করা গ্যাসের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কাতারের এলএনজি রপ্তানিও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ প্রথমবার এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত করে কাতারএনার্জি এবং একই সময়ে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে।

এর পাশাপাশি কাতারের এলএনজি অবকাঠামোও হামলার মুখে পড়ে। মার্চে কাতার এনার্জির রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমেছে।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

কাতারএনার্জির সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ কাতারের এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ থাকলে এসব দেশের আমদানিকারকদের অন্য উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শীতের আগে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে শুরু করলে এই সরবরাহ পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কাতারএনার্জির নতুন করে ‘ফোর্স মেজর’-এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কাতারের এলএনজি অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব এখনো বিদ্যমান থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের কাছে কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউসের মৃত্যু

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউসের মৃত্যু