সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে মোদি বলেন, ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মানবিক প্রভাব তুলে ধরে মোদি বলেন, সংঘাত যত বেশি সময় চলবে, মানবতা তত বেশি পিছিয়ে পড়বে। বিপরীতে শান্তির পথে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে। তাই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বদলে সংঘাতের অবসান এবং শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মোদি বলেন, ‘ভারত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সব ধরনের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।’
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রুশ তেল বিক্রি দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত ও চীন বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা।
মোদির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পুতিন বলেন, ‘ধন্যবাদ, প্রধানমন্ত্রী। আমরা এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।’
রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদিকে অবহিত করেন। তবে মস্কো এর আগেও জানিয়েছে, নিজেদের শর্তের ভিত্তিতে তারা যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কিয়েভের মতে, ওই শর্তগুলো মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এবং সেগুলো মূলত আত্মসমর্পণের দাবির সমতুল্য।
নিউজ বাংলা চ্যানেল