ঢাকা | খ্রি.

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চায় যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার মতো কৌশলের কথা ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 6, 2026 ইং | Photo Card
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চায় যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার মতো কৌশলের কথা ট্রাম্পের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিউজ বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা হয়েছে এবং দেশটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল নিয়েছিল, একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই এবং মানুষের প্রাণহানি এড়াতে চান। এ কারণে সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পরও ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটন সামরিক শক্তির পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায়। তবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ক্ষেত্রে ইরানের বিষয়ে তাঁর অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানান তিনি।

ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ অল্প সময়ের মধ্যেই সফল হয়েছিল। ওই অভিযানের ব্যয়ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে পূরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান আসায় সেটি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। যদিও পরে ইরান এমন কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছে বলেও জানান ট্রাম্প।

তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং আগামী দিনগুলোতে এর ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়। ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে।

ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র গেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করবে বলেও আবারও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এ কারণে এ বিষয়ে তাঁর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের (আইসিই) কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, ওই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হচ্ছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে। তাঁর দাবি, আলোচনার জন্য ইরানের কর্মকর্তারাই প্রথম যোগাযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স