সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে জোটটি জানায়, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের দিকে যাচ্ছিল। অন্য দুটি ড্রোনের লক্ষ্য ছিল রাজধানী রিয়াদ। সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি জোটটি।
হামলার আশঙ্কায় রাতভর খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি রেখেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তবে রাজধানী রিয়াদের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর খামিস মুশাইত ও আবহা ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অতীতেও হুতিদের হামলার ঝুঁকিতে ছিল। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ, দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোসহ, বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত সংগঠনটি।
জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এসব হামলার মধ্যে লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি জাহাজও রয়েছে।
হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ লোহিত সাগরও হুতিদের হামলার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপসহ অন্যান্য এলাকায় পণ্য পরিবহনে এই নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ। হামলার আশঙ্কা বাড়লে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ ও বিকল্প পথে চলতে হতে পারে, এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি। ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি—দুই নৌপথেই অস্থিরতা থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
হুতিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা। সেখানে সৌদি আরবের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়।
গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ তিনটি পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা আরও জোরদার করতে চায়।
শনিবার ভোরে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি। খালিদ বিন সালমান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের দিকে হুতিদের নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল