ঢাকা | খ্রি.

রাজধানীতে দখলচেষ্টা, হামলা ও লুটপাট: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের চিন্তা সরকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 29, 2026 ইং | Photo Card
রাজধানীতে দখলচেষ্টা, হামলা ও লুটপাট: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের চিন্তা সরকারের ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় তিন দিনের ব্যবধানে চারটি স্থানে জমি ও স্থাপনা দখলের চেষ্টা, অস্ত্রধারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ঘটনা বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ গত শনিবার রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি আটতলা ভবনে অস্ত্রধারীদের হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এর আগের রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চলছে। বিএনপির নেতাদের একাংশের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এসব ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তবে দল দুটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এ পরিস্থিতিতে আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপিকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দলের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দলের কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে। দলের ভেতরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন।

বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নির্যাতন, মামলা, কারাবরণ, গুম ও হত্যার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দলের অনেক নেতাকর্মী দল ছেড়ে যাননি। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দল ক্ষমতায় আসার পর মাত্র সাত মাসের মধ্যে দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দলটির নেতাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা কিছু নেতাকর্মী ক্ষমতায় আসার পর ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়িয়ে পড়ছেন। কোথাও কোথাও মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়করণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে দলের ভেতরেই।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে তা স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জনমনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অতীতের অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপের প্রসঙ্গ

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতীতেও বিভিন্ন সরকার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকার চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে সেনাবাহিনীকে অভিযানে নিয়োজিত করে। পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। এসব অভিযানের কার্যকারিতা, মানবাধিকারসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রাড্ডা সেন্টারে হামলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে।

একইভাবে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সালমান মুক্তাদিরের পারিবারিক সম্পর্ক ও পরিচিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কনটেন্ট তৈরির ধরন নিয়েও নানা অভিযোগ প্রচারিত হচ্ছে। তবে এসব প্রচারণার সত্যতা যাচাই ছাড়া সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সরকারের জন্য সতর্কবার্তা

রাজধানীতে ধারাবাহিক হামলা, দখলচেষ্টা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এসব ঘটনাকে সরকারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অপরাধী যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে দলটির প্রতি অবিশ্বাসের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত আলোচনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার ক্ষেত্রে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপিকে কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। দখলবাজি ও চাঁদাবাজির প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে রাজধানীতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সমন্বিত উদ্যো

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সমন্বিত উদ্যো