নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে একাই প্রতিরোধ গড়লেন নাঈম হাসান। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম হয়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেললেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি তিনি। ফলে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের লিড মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৭০ রান।
চতুর্থ দিন সকালে চার উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার জাকের আলীর বিদায়ের পর কার্যত একাই লড়াই চালিয়ে যান নাঈম। ৯১ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৫ রানের।
জাকের আলী ৩৪ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে খেলতে নামা জাকেরের ওপরই তখন দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে অনেকটা নির্ভর করছিল বাংলাদেশ।
তবে জাকেরের বিদায়ের পরও হাল ছাড়েননি নাঈম। হাসান মাহমুদের সঙ্গে ২৬, তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৭ এবং শেষ উইকেটে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। এর আগে জাকেরের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান। প্রতিটি জুটিতেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নাঈম।
শেষ পর্যন্ত বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। তার বিদায়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস।
বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্বস্তির কারণ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডিং ব্যর্থতা। তিনবার ক্যাচ ফেলে নাঈম ও হাসান মাহমুদকে নতুন জীবন দেন ক্যারিবীয় ফিল্ডাররা। জোমেল ওয়ারিক্যান নিজের বলে হাসান মাহমুদের ক্যাচ ছাড়েন। পরে রস্টন চেইস স্লিপে দুইবার নাঈমের ক্যাচ ফেলে দেন।
বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দাপট দেখিয়েছেন রস্টন চেইস। তিনি শিকার করেন পাঁচ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন চার উইকেট।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে লিড দুইশ রানের ঘরে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের লক্ষ্য নিয়েই চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এখন দেখার বিষয়, বোলাররা এই পুঁজি নিয়ে কতটা লড়াই জমাতে পারেন।
নিউজ বাংলা চ্যানেল