২০১২ সালে প্রলয় চাকীর উদ্যোগে ‘সপ্তসুর’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সংগীত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাঁদের পরিবেশনার সুযোগ তৈরি করাই ছিল সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য। বিনামূল্যের এই প্রশিক্ষণে গান শেখানোর পাশাপাশি মাইক্রোফোন ব্যবহারের কৌশল, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, স্কেল ও কর্ডের প্রাথমিক ধারণা এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম দেওয়া হতো। উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখানোর জন্য ছিল পৃথক প্রশিক্ষকের ব্যবস্থাও।
প্রতিভাবান শিল্পীদের খুঁজে বের করতে পাবনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতেন প্রলয় চাকী। পরে তাঁদের ‘সপ্তসুর’-এর সঙ্গে যুক্ত করে সংগীতের প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। শিল্পীদের পরিবেশনার সুযোগ বাড়াতে ছেলে সানি চাকীর সঙ্গে পরামর্শ করে পাবনায় ‘স্টুডিও কৃত্তিম’ নামে একটি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিওও প্রতিষ্ঠা করেন প্রলয় চাকী।
‘স্টুডিও কৃত্তিম’ থেকে ‘সপ্তসুর’-এর শিল্পীদের বিভিন্ন পরিবেশনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হতো। এসব পরিবেশনা দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের পাশাপাশি গুণী ও জনপ্রিয় শিল্পীদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালে সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পরের বছর, ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি মারা যান প্রলয় চাকী। তাঁর মৃত্যুর পর বাবার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন সানি চাকী।
সানি চাকী বলেন, ‘বাবার মূল ভাবনাকেন্দ্রিক জায়গাটি অক্ষুণ্ণ রেখে সপ্তসুরের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। নিয়মিত রেওয়াজ ও আগের প্রশিক্ষণগুলোর পাশাপাশি এবার শিশু-কিশোরদের জন্য গিটার ও ছবি আঁকার বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে।’
তিনি জানান, নতুনভাবে সাজানো সেটেও যুক্ত হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। রাতের শহর ও ছাদের আবহ ফুটিয়ে তুলতে সেটটি তৈরি করা হয়েছে। লাইটিং ও ক্যামেরার কাজ শেষ হলে শিল্পীদের রেওয়াজ এবং লাইভ পরিবেশনা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সানি চাকী বলেন, বাবার সংগীতচর্চার উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য কাজ করে যেতে চান তাঁরা। এ কাজে সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসাও কামনা করেন তিনি।
নিউজ বাংলা চ্যানেল