ঢাকা | খ্রি.

পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশুস্বাস্থ্যে বছরব্যাপী ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 24, 2026 ইং | Photo Card
পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশুস্বাস্থ্যে বছরব্যাপী ২২ দফা কর্মপরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এক বছরের জন্য ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

কর্মপরিকল্পনায় হাট ক্যাম্পেইন, র‍্যালি ও সমন্বয় সভার বাইরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন আয়োজনের পাশাপাশি ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২২ দফা কর্মপরিকল্পনায় যা রয়েছে

কর্মপরিকল্পনার আওতায় মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’ আয়োজন, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া এবং ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতিদের কাউন্সেলিং এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে পুরুষদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ও রয়েছে ২২ দফায়।

সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিনা মূল্যে পাওয়ার বিষয়টি প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদার করা এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক বলেন, ‘২২টি আলাদা কর্মসূচি বা বড় বাজেট ও জনবলের পেছনে না ছুটে মূল সেবায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রচার। মাঠকর্মীদের নিয়মিত গৃহপরিদর্শন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমআইএস ও জবাবদিহি জোরদার করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাট-বাজারের ফার্মেসিতে বিশেষ কর্নার করে পুরুষদের সহজে বিনামূল্যের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ বেসরকারি বাজার থেকে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী কেনেন। তাদের সরকারি বিনামূল্যের সামগ্রীর বিষয়ে জানানো প্রয়োজন।’

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে।’

সেমিনারে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি সেমিনারে অংশ নেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
ভোলার বিচ্ছিন্নতা ঘোচাতে ৫৬ কিলোমিটারের বাইপাস মহাসড়ক

ভোলার বিচ্ছিন্নতা ঘোচাতে ৫৬ কিলোমিটারের বাইপাস মহাসড়ক