ঢাকা | খ্রি.

শেষ সাত মিনিটে তিন গোল, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রিয়ালের জয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 15, 2026 ইং | Photo Card
শেষ সাত মিনিটে তিন গোল, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রিয়ালের জয় ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক রোমা। ম্যাচের ৪৮ সেকেন্ডেই মাতিয়াস সোলের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে মারিও হারমোসোর বাঁকানো শট ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। পাওলো দিবালাও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৭ মিনিটে ম্যানু কোনে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে কিছুটা ধাক্কা খায় রোমা। তবে তিন মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। বক্সের বাইরে থেকে মার্টেন ডি রুনের নেওয়া শট দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে পরাস্ত হন কোর্তোয়া।

গোল হজমের পর দ্রুত ম্যাচে ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ মিনিটে রোমার রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে ৫০০ গোল-অবদানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন ফরাসি তারকা। এ পর্যন্ত তাঁর গোল ৩৭৮টি, সঙ্গে রয়েছে ১২২টি অ্যাসিস্ট।

বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের একটি ভালো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যর্থতার সুযোগ নেয় রোমা। ৫০ মিনিটে রদ্রিগো মোরার দারুণ পাস থেকে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন ডনিয়েল মালেন। সাত মিনিট পর মাতিয়াস সোলের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ডাচ ফরোয়ার্ড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় রিয়াল। এমবাপ্পে আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকটাই রোমার হাতে। স্বাগতিক সমর্থকেরা যখন জয় উদ্‌যাপনের অপেক্ষায়, তখনই পাল্টে যেতে শুরু করে ম্যাচের চিত্র।

৮৩ মিনিটে কর্নার থেকে এন্দ্রিকের হেড ঠেকিয়ে দেন রোমার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনি। ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান কমান কার্লোস এস্পি। দুই মিনিট পর আরদা গুলারের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে সমতা ফেরান এন্দ্রিক। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে আরেকটি কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করে রিয়ালের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন আন্তোনিও রুডিগার।

রিয়ালের এই প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা আরদা গুলার। তাঁর নেওয়া দুটি নিখুঁত কর্নার থেকেই আসে সমতাসূচক ও জয়সূচক গোল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর নিখুঁত ক্রস রোমার রক্ষণভাগকে দিশেহারা করে দেয়।

এন্দ্রিকের জন্যও ম্যাচটি ছিল নিজেকে প্রমাণের বড় মঞ্চ। মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা না পেলেও বদলি হিসেবে নেমে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কার্যকর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন এই তরুণ ব্রাজিলিয়ান।

অন্যদিকে, এমবাপ্পের জন্য ম্যাচটি ছিল ব্যক্তিগত মাইলফলকের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন তিনি। ২৭ বছর ২৯৮ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে পেছনে ফেলেন লিওনেল মেসিকে। ২০১৫ সালে ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শততম ম্যাচ খেলেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তের তিন গোলে ৩-১ ব্যবধানের ঘাটতি মুছে ৪-৩ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, প্রায় নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে শেষ সাত মিনিটে তিন গোল হজম করে হতাশায় ডোবে রোমা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স