প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম এবং নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানের পথও মিয়ানমারেই নিহিত।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও ‘আরাকান আর্মি’—উভয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে এখনো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, সংকটের ক্ষেত্রে শুধু সহমর্মিতা প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে এর মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকাল শুধু বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব বহনের প্রত্যাশাও করা যায় না।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দেখতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যেন নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরতে পারে, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
২. রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা সেখানে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা অর্জন করতে পারেন।
৩. রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আতিথেয়তা দেখানোর কারণে তাদের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
৪. টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগে গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
৫. আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলছে এমন মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল