গত ২৫ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেন জি তাদেরই সন্তান। তবে কিছু মানুষ তাদের উসকানি দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে ভারতে প্রায় ২০ কোটি শিশু জন্ম নিয়েছে। এই প্রজন্মের সামনে বড় আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং তারাই ভবিষ্যতে ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এসব কারণেই তিনি পদ আঁকড়ে না থেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষে রায়রাখোলে একটি জনসভায় বক্তব্য দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে ওড়িশার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়ককে নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি বিমানবন্দরে বিজেডির যুব ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ফিরে যান’ স্লোগান দিয়েছিলেন। এর জবাবে বিজেপির এই নেতা বলেন, তিনি কৃষকের সন্তান। তাকে যতবার ফিরে যেতে বলা হবে, ততবারই তিনি জনগণের কাছে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে ওড়িশার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজ তিনি কখনো করেননি বলেও দাবি করেন।
মঞ্চে বিজেডির বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী প্রসন্ন আচার্য উপস্থিত থাকলেও ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ তাকে জনগণের কল্যাণে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেডি। সম্বলপুর জেলা বিজেডির সভাপতি রোহিত পূজারী দাবি করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেউ বদনাম করেনি। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার ও পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাই তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিত পূজারীর অভিযোগ, নিজের ভুল আড়াল করতেই ধর্মেন্দ্র প্রধান নবীন পট্টনায়ককে দায়ী করছেন।
এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সফরকে ঘিরে নতুন করে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সম্বলপুর পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ জন বিজেডি কর্মীকে আটক করা হয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল