ঢাকা | খ্রি.

এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতকে সতর্ক করলেন রাশেদ খান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং | Photo Card
এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতকে সতর্ক করলেন রাশেদ খান ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। জামায়াতের সঙ্গে দলটির ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই এই সম্পর্ক নিয়ে আফসোস করতে পারেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, এনসিপিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। জামায়াত সহযোগিতা চাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহরকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সহযোগিতা চাওয়া না হলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো।

রাশেদ খানের অভিযোগ, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে একটি ঝামেলা তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছিল। তার দাবি, রাতে মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। এসব লাঠি পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল-যুবদল গেলি কই!’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনায় অনেকের কাছে মনে হয়েছে, এনসিপির লং মার্চের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবল ছিল জামায়াতের। তার দাবি, জামায়াত সরাসরি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে চায়।

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের জোট ছেড়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় এনসিপিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন, তা নিয়েও সচেতন নেতাকর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের জোটে থাকা দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই দলটি জামায়াতের সঙ্গে গেছে। তার দাবি, মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত। অন্য দলগুলোর অনেকে একটি করে আসন না পাওয়ার কারণে জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার নিজেদের বক্তব্য পরিবর্তন করে বিএনপিতে ফিরে যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াত যাদের ওপর আস্থা রেখে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে, ভবিষ্যতে তারাই দলটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার ভাষায়, একপর্যায়ে তারা জামায়াতকে এমন ধাক্কা দিতে পারে, যার পর দলটি আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নাও পেতে পারে।

এনসিপির নেতাদের অতীত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, দলটির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্রবিরোধী শক্তি’, ‘ভারতের এক্সটেনশন’, ‘সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে’ এবং ‘জামায়াত ইসলামিক দল নয়’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।

ভবিষ্যতে এনসিপির অবস্থান বদলালে তা নথিভুক্ত করার পরামর্শও দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য।’

পোস্টের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ খান দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি দলটিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একদিন তারাই আফসোস করে বলবেন, ‘দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষলাম।’


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাবেক মন্ত্রী আমুর আট ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

সাবেক মন্ত্রী আমুর আট ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ