নিজস্ব প্রতিবেদক
তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে কারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে এসব এলাকার প্রায় ৩০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুরে সকাল নয়টার দিকে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। এ সময় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। অবরোধের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা তিনটা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন আন্দোলনকারীরা।
সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।
পোশাকশিল্প দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত হওয়ায় শ্রমিকদের মজুরির দাবি, কারখানার উৎপাদন এবং শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের দ্রুত ও কার্যকর সমাধান এবং শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজ বাংলা চ্যানেল