ফেনী প্রতিনিধি: সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাকে বহনকারী বাস ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছালে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘প্রধানমন্ত্রী তোমাকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
দিনব্যাপী সফরে তারেক রহমান জেলার সীমান্তবর্তী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে তিনি পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করেন।
পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার সড়কের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকারপ্রধান।
‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৪ সালের আগস্টে ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ওই বন্যায় ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
ওই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের। এর আগে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরটি প্রথমে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি দীর্ঘ সময় পর ফেনীতে এসেছিলেন তারেক রহমান। তবে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ফেনীতে তাঁর প্রথম সরকারি সফর।
নিউজ বাংলা চ্যানেল