শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রমের জন্য সরকার দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।
এবার অর্থ বিতরণে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকছে না। আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। এ সময়ে অবসরে যাওয়া একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তাদের পাওনা পরিশোধে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চাকরির সময় মূল বেতনের ৬ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে অবসর সুবিধা নির্ধারণ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশেষ বরাদ্দ থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার ১১৫ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ দুই ব্যবস্থার আওতায় মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী এ ধাপে অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। মূল বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদার ভিত্তিতে নির্ধারিত কল্যাণ সুবিধায় এককালীন সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
তবে এখনো অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন ঝুলে আছে। সব আবেদন সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করতে আনুমানিক ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
সরকারের নতুন দুই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই অর্থ দিয়ে একসঙ্গে সবার বকেয়া মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর। এরপর ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সুবিধাভোগীদের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল