নিজস্ব প্রতিবেদক
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভারের আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই নরসিংহপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দিলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
সংঘর্ষের পর নরসিংহপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ চলছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের একাধিকবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফলে দেশের অন্যতম প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বর্তমান বেতনে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে, একের পর এক শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন, রফতানি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের মধ্যে দ্রুত কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি উঠেছে।
নিউজ বাংলা চ্যানেল