ঢাকা | খ্রি.

চা শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 17, 2026 ইং | Photo Card
চা শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ad728
নিউজ বাংলা ডেস্ক : দেশের চা শিল্পকে লাভজনক ও টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো, ঋণের চাপ হ্রাস এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদের হার কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ রোপণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি চা বাগানের জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত মনিটরিং ও পরামর্শক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চা খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ কাজে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটির প্রথম বৈঠকে চা শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা দেশেই উৎপাদিত হয়। উৎপাদনের অবশিষ্ট অংশ রপ্তানি করা হয়। তাই প্রথমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং পরে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে বাংলাদেশের চায়ের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের উৎপাদকরা সবুজ চা, অর্থোডক্স চা, সাদা চা এবং সিটিসি পদ্ধতিতে তৈরি কালো চাসহ বিভিন্ন ধরনের চা উৎপাদন করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি চায়ের মিশ্রণ তৈরি করে নতুন স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের পণ্য বাজারে আনছে এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন পদ্ধতি, চায়ের মিশ্রণ তৈরি এবং রপ্তানি উন্নয়নের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো বাগান আধুনিকায়নের পরিকল্পনা

কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে চা বাগানের সংখ্যা ১৭২টি। এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নার্সারিসহ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে চা চাষ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি। তবে বিকল্প বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জমির বর্তমান ব্যবহার, বাগান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশগত প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার সুপারিশ করেছে কমিটি।

২০২৫ সালে দেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। দেশে প্রতি হেক্টরে গড় চা উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও অনেক বাগানে চা গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর কিংবা তারও বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন গাছ রোপণ করতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় এ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় উৎপাদনশীলতা কম থাকায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতাও চাপের মুখে রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চা শিল্পের অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, এ খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, শুধু ঋণের ওপর নির্ভর করে চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাগানগুলো নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারে এবং রাজস্ব, কর ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।

ঋণের চাপ কমাতে আর্থিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ

চা শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ঋণের বোঝা। কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণ রয়েছে ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ৫১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এই আর্থিক চাপ মোকাবিলা করে সম্ভাবনাময় বাগানগুলোর উৎপাদন ও বিনিয়োগ সচল রাখার জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে চা উৎপাদন ও বিনিয়োগে সহায়তা দিতে ৬ শতাংশ সুদে একটি আবর্তক তহবিল গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ১৮ হাজার কোটি টাকার আবর্তক পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই তহবিল থেকে ঋণগ্রহীতাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন।

চা খাতের জন্য আলোচিত ৬ শতাংশ সুদের আবর্তক তহবিল এবং বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি থেকে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দুটি আলাদা উদ্যোগ। এর কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে কার্যকর হয়নি।

এ ছাড়া চা উৎপাদনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের হার বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টাসহ কয়েকটি ফসলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রেয়াতি সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

কৃষিঋণের আওতায় আনার প্রস্তাব

চা চাষকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও কমিটির বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এ স্বীকৃতি পাওয়া গেলে চা উৎপাদকদের জন্য কৃষি খাতের রেয়াতি ঋণসুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ চা বোর্ডও এ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, চা খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে চারা রোপণ, গাছের পরিচর্যা, ছাঁটাই ও পাতা সংগ্রহ। এসব কাজ মূলত কৃষিকাজের অন্তর্ভুক্ত। বাকি ৪০ শতাংশ কার্যক্রম চা প্রক্রিয়াজাতকরণসংক্রান্ত শিল্প কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আপত্তি রয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ চা প্রক্রিয়াজাতকরণকে শিল্প কার্যক্রম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চা খাতকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প আয়ের সম্ভাবনা

চা বাগানের চাষের অনুপযোগী জমিতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি বাগানের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চা কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিভিত্তিক বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। বিশেষ করে চা উৎপাদন এলাকা ও হাওর অঞ্চলের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে বিকল্প বনায়ন, কৃষিকাজ ও অন্যান্য আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও এসেছে। জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোগ এবং নেট মিটারিংয়ের মতো ব্যবস্থার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত চা রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা

দেশের চায়ের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণেও নতুন সম্ভাবনা দেখছে সরকার। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কেজি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারে।

দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে চা বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে রপ্তানি সম্প্রসারণে অর্থোডক্স ও বিশেষায়িত চায়ের উৎপাদন বাড়ানো, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিং উন্নত করা, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ধরনের চা উৎপাদনে বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ অর্জনের উদ্যোগও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব

চা শিল্পের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ও ঋণসুবিধার পাশাপাশি বাগানগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিটি বাগানের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থায়ন পাওয়ার পর বাস্তবায়িত হলে চায়ের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, বাগানগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : নিউজ বাংলা চ্যানেল

কমেন্ট বক্স