নিজস্ব প্রতিবেদন
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনার জয়ের রথ থামিয়ে দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৪-২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। প্যারিসে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলে বার্সেলোনার রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলে স্বাগতিকরা। এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল কাতালানরা।
২০২৪ সালে প্যারিসে পিএসজিকে হারিয়ে দারুণ এক জয় নিয়ে ফিরেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই দলের পরবর্তী তিন দেখাতেই হারতে হয়েছে কাতালানদের। এবারও প্যারিসে সেই হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি তারা। পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি বার্সেলোনার টানা তৃতীয় পরাজয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের অগোছালো অবস্থার সুযোগ নিয়ে দ্রুত গোলের সন্ধানে নামে স্বাগতিকরা। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। তাঁকে পরাস্ত করলেও বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
প্রাথমিক চাপ সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বার্সেলোনাও। পেদ্রি ও অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই।
১৯তম মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় পিএসজির উসমান দেম্বেলেকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় ফেররান তরেস। ২৫তম মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তরেসের শট ঠেকিয়ে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেন গার্সিয়া। এর পরপরই চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার দানি ওলমো।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও পিএসজির গতিময় আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।
পরে লোপেজের পাস থেকে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান এস্পার্ত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এটি প্রথম গোল। গোলের পর বার্সেলোনার খেলায় নতুন উদ্দীপনা দেখা গেলেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করে দলটি।
৭০তম মিনিটে ফেররান তরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলবঞ্চিত হয় পিএসজি। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। বাতাসে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তাঁর হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া।
পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। ৭৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে ২-২ সমতা ফেরান লামিনে ইয়ামাল। পিএসজির রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এরপর ডান দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে বক্সে ঢুকে কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান এই তরুণ তারকা।
কিন্তু বার্সেলোনার সেই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৮১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ক্লিয়ার করা বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের হাফ ভলিতে দুর্দান্ত গোল করেন ভিতিনিয়া। আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি। শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ায় ফরাসি ক্লাবটি।
৮৬তম মিনিটে হাকিমির পাস থেকে দূরের পোস্টে পৌঁছে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন রুইস। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি।
এই পরাজয় বার্সেলোনার চলতি মৌসুমের দুর্দান্ত ছন্দে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের ভুল এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলটির সামর্থ্য নিয়ে।
এদিকে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী রোববার লা লিগার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের আগে পিএসজির কাছে এই হার কাতালানদের আত্মবিশ্বাসে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
নিউজ বাংলা চ্যানেল