নিউজ বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির দায়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ আগামী পাঁচ বছরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং সেবা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উদ্যোগে ব্যবহার করা হবে।
এটি গত মার্চে মেটার বিরুদ্ধে দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের দ্বিতীয় ধাপ। সে সময় জুরি বোর্ড রায় দেন, মেটা জেনেশুনেই তাদের প্ল্যাটফর্মকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে দিয়েছে এবং শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানাও আরোপ করা হয়।
মেটার প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করে এটি ছিল প্রথম বিচারিক রায়। মামলার সূত্রপাত হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর, যেখানে দাবি করা হয় যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু পাচার ও যৌন শোষণের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
মামলার দ্বিতীয় ধাপে প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে মেটার প্ল্যাটফর্মে মৌলিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে ছিল আসক্তি তৈরিকারী ফিচার নিয়ন্ত্রণ, বয়স যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শিশুদের জন্য ডিফল্ট প্রাইভেসি সেটিংস জোরদার করা এবং যৌন শোষণ প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা।
আদালত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন ব্যানার ও তথ্যপর্দা যুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে নিরাপত্তা ফিচার, নিরাপদ ব্যবহারের নির্দেশনা এবং অনুপযুক্ত মন্তব্য মোকাবিলার বিভিন্ন টুল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকবে।
এ ছাড়া নিউ মেক্সিকোতে পরিচালিত শিক্ষামূলক প্রচারাভিযান এবং এসব পরিবর্তনের বাস্তবায়ন রাজ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।
তবে আদালতের এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে মেটা। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা এ রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। ক্ষতিকর ব্যক্তি ও কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সবসময় স্বচ্ছ থেকেছি। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজ বাংলা চ্যানেল