নিজস্ব প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ছেলেদের আসরের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি টাইগাররা। বাংলাদেশের দেওয়া ১১২ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই নাসুম আহমেদের বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়ান নাসুম। ৭ বলে ১৫ রান করেন সাদাকাত।
এরপর সাইম আয়ুবের ১২ বলে ২১ রানের ইনিংস পাকিস্তানের রান তোলার গতি বাড়ায়। তবে তাকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। ৬.১ ওভারে রিশাদ হোসেনের বলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান উসমান খান। ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়লে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ।
তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন হাসান নেওয়াজ ও আব্দুল সামাদ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৩২ বলে ৫৯ রানের জুটিতে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। তখনো ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে ২৩ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তান। এরপর শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় মাত্র ১৩ রান। বাকি কাজটুকু সহজেই সম্পন্ন করেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটার।
১৫ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন আব্দুল সামাদ। অন্যদিকে, ২২ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হাসান নেওয়াজ। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ছিলেন সবচেয়ে খরুচে। রিশাদ হোসেন একটি উইকেট নেন ১২ রানে। মেহেদী হাসান একটি উইকেট পেতে খরচ করেন ১৭ রান। এক ওভারে মাত্র ৭ রান দেওয়া শরিফুল ইসলামকে পরে আর বোলিংয়ে আনা হয়নি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে চাপে ছিল বাংলাদেশ। শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দলটি। ওপেনার তানজিদ হাসান ৫ বলে ৭ রান করে ফেরেন। লিটন দাস ৩ বলে ২ এবং পারভেজ হোসেন ইমন ৪ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন।
বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়াই করেন তাওহিদ হৃদয়। ২৫ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে। ১৭ বলে এই রান করেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন ১৬ বলে করেন ১১ রান। বাকিরা প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল সুফিয়ান মুকিম। ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি। আরাফাত মিনহাস ২৩ রান খরচায় নেন ২ উইকেট।
এই জয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা সোনার পদকের লড়াইয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ১১১/৭ (তাওহিদ হৃদয় ৪২, সাইফ হাসান ১৯, মোসাদ্দেক হোসেন ১১, মেহেদী হাসান ৮*; সুফিয়ান মুকিম ৩/২৬, আরাফাত মিনহাস ২/২৩, সাইম আয়ুব ১/৩)।
পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ (আব্দুল সামাদ ৩০*, হাসান নেওয়াজ ২৭*, মাজ সাদাকাত ১৫; মেহেদী হাসান ১/১৭, নাসুম আহমেদ ১/৩৩, মুস্তাফিজুর রহমান ১/৪১, রিশাদ হোসেন ১/১২)।
ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।
নিউজ বাংলা চ্যানেল